তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধু

23

::মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ::
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই অগ্রসর জাতিকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র দিয়ে গেছেন। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ার এক অজপাড়াগাঁয়ে সম্ভ্রান্ত বাপ-দাদার টিনের ঘরে জন্ম নেয়া ‘রাখাল বালক’ অকুতোভয় শেখ মুজিব অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে, জীবনের মূল্যবান সময় জেলহাজতে থেকে, পরিবার-পরিজনের মায়া-মমতা থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটিয়ে শত দুঃখ-দুর্দশার মধ্যেও পাকিস্তানি শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাঙালিদের জন্য ‘বাংলাদেশ’ নামে একটি দেশ এনে দিয়েছেন। ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীনতা। শেখ মুজিব হয়ে উঠলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পিতা। মহান এ পুরুষকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, তাঁর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা, প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তার নীতি-আদর্শ সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়া বর্তমান প্রজন্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিন উপলক্ষে মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

তারুণ্যের অনুপ্রেরণায় সদা জাগ্রত বঙ্গবন্ধু

বাঙালি ও বাংলাদেশ শব্দ দুটি উচ্চারণ করতে গেলেই অবধারিতভাবেই উচ্চারিত হয় বাংলার স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামটি। এদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসের পাতায় ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করা এক নক্ষত্র বঙ্গবন্ধু। ২৩ বছরের গোলামীর শৃঙ্খল ভেঙে যার একটি ডাকেই ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছিল দূর্গ তিনিই হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই বঙ্গবন্ধু নামটি শুধুই একটি নাম নয়, বঙ্গবন্ধু মানেই ইতিহাস। বাঙালির চিন্তার জগতে, ভাবনার ভুবনে, মেধার উৎকর্ষে কিংবা ভরসার আশ্রয়স্থল হিসেবে সবস্থানে খুঁজে পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্বকে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি যেন এক অপার সাহসীকতার মূর্ত প্রতীক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর! জাতির পিতা আমাদের শিখিয়ে গেছেন, কীভাবে ঝড় ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথে মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে চলতে হয়, অধিকার আদায় করে নিতে হয়, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়। আমাদের চলার পথ কখনোই মসৃণ নয়। পথ যতই বন্ধুর হোক না কেন হৃদয়ে যদি থাকে দেশপ্রেম আর চিত্তে থাকে সাহস তাহলে দেশের জন্যে ঝাপিয়ে পড়া যায় এই মহান শিক্ষা বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়ে গেছেন। এ শিক্ষাকে ধারণ করেই তারুণ্যের চেতনায় ও অনুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু যুগে যুগে আদর্শ, ন্যায়পরায়ণতা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে।

মুশফিকুর রহমান ইমন
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে হোক দেশপ্রেমের শিক্ষা

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাসে যার নামটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্যমান তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার দূরদর্শী, বিচক্ষণ ও সঠিক নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে একজন সেরা দেশপ্রেমিক। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন থেকে তরুণ প্রজন্ম অসীম সাহসিকতায় পথ পাড়ি দিতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, মানবতার সেবা করতে, মাথা নত না করে ন্যায়ের পথে চলতে আর আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শিখে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি বঙ্গবন্ধুর চোখ ছিল সবসময় কোমল। কারণ তিনি জানতেন তরুণরাই তাদের সৃষ্টিশীল মেধা ও প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। আমি চোখ বন্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নাম নিলেই মনের অকপটে ভেসে ওঠে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর এক টুকরো হাসি। কানে যেন শুনতে পাই বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রধ্বনি “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” বঙ্গবন্ধু তরুণদের কাছে চিরকালই সততা, ন্যায়, কল্যাণ ও আদর্শের প্রতীক। যিনি নিজের স্বার্থকে কখনোই প্রাধান্য দেননি, জাতির কল্যাণের কথা ভেবেছেন সবসময়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বিশ্বাস মনের মধ্যে আঁকড়ে ধরে রাখলে তরুণ প্রজন্ম কখনোই বিপথে যাবে না- এমনটাই প্রত্যাশা।

মাহমুদা টুম্পা
শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

স্বাধীন বাংলার রন্ধ্রে-গন্ধে থাকুক বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব

স্বাধীনতার অস্তিত্বে বঙ্গবন্ধু আছে বলে আজও নদীর বুকে পদ্ম ভাসে, বাংলার ঘরে প্রদীপ জ্বলে, হৃদয়ের মন্দিরে ভালোবাসা জন্মে এবং চেতনার জোয়ারে লাল-সবুজের পতাকা উড়ে। সভ্যতার পাদচারণে পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক মহান ব্যক্ত্বিতের আগমনীর গান বেজেছে, যাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অস্তিত্বের সুর। তেমনি করে স্বাধীন বাংলার রন্ধ্র-গন্ধে মিশে আছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অস্তিত্বের ঝংকার। ১৯৭১ সালের তার এই ঐতিহাসিক ৭মার্চের ভাষণ ছিলো অসম ও বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনে মানবতাবাদী, শোষণহীন ও সমতামূলক সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার দিকনির্দেশন। এই রসাত্মক ও জোরালো ভাষণ অনুসরণ করেই বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম অচিরেই প্রচলিত সমাজব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাসংকুল বদলে ফেলতে পারবে। মূলত, কাঠামোগত পরিবর্তনের মূল নিয়ামক হলো দৃঢ় প্রত্যয় ও স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন। যেগুলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এখনও জ্বল জ্বল করছে। এখনই তরুণ সমাজের উচিত তার আদর্শের আলোতে নিজেদের আলোকিত করা।
তাছাড়াও যখন অত্যাচারের জাঁতাকলে পিষে শেষ হয়ে যাচ্ছিল একটি জাতির প্রাণ তখনই মুক্তির কান্ডারী হয়ে হাজির হলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় অত্যাচারী পাকিস্তান গোষ্ঠীর মতো অস্ত্র, প্রশিক্ষণ আমাদের ছিলো না, কিন্তু আমাদের মগজে ছিলো বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, হৃদয়ে ছিলো বঙ্গবন্ধুর প্রখরতা। এজন্য স্বাধীনতার ৫০বছর পর আজও তারুণ্যের কাছে বঙ্গবন্ধু মানে শুধুমাত্র একটি নাম না, বঙ্গবন্ধু মানে এক আত্নবিশ্বাসের ছোঁয়া, গৌরবের উষ্ণতা, আশার ভালোবাসা।

ফারহানা ইয়াসমিন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

তারুণ্যের আদর্শ হোক বঙ্গবন্ধু

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আমাদের দিয়েছেন স্বাধীনতা, দিয়েছেন একটা জাতীয় পতাকা আর একটা মানচিত্র। তিনি বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়িয়ে বাঙালির কাছে পৌঁছে দেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার মন্ত্র। সে মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে স্বাধীন দেশে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। শৈশব থেকে তৎকালীন সমাজজীবনে তিনি জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও প্রজা পীড়ন দেখে চরমভাবে ব্যথিত হতেন। গ্রামের হিন্দু, মুসলমানদের সম্মিলিত সম্প্রীতির সামাজিক আবহে তিনি দীক্ষা পান অসাম্প্রদায়িক চেতনার। তরুণদের কাছে বঙ্গবন্ধু এক আদর্শের নাম। বঙ্গবন্ধুর আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব, তার বাগ্মিতা, মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থহীন ভালোবাসা, সাহসিকতা প্রভৃতি গুনাবলী তরুণদেরকে সহজেই আকৃষ্ট করে। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলাদেশ গড়তে তরুণরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বাংলা ও বাঙালি যত দিন থাকবে, এ পৃথিবী যত দিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় এ মহাপুরুষকে চিরকাল স্মরণ করবে।

মোস্তাকিম খন্দকার মঈন
শিক্ষার্থী, সিভিল‌ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর