দৃষ্টি আকর্ষণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

174

হাম্মাদ সিয়াম
রাজশাহী।
অনেক কিছু বলতে চাচ্ছি না শুধু একটি বিষয়ে আলোকপাত করছি।
সময় পেলে একবার পড়ুন সুপ্রিয় পাঠ
যে দেশে কোন কিছু বন্ধ নেই, সেদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার অজুহাতে আবাসিক হল এক বছর হলে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
মার্কসিট/সার্টিফিকেট তোলার জন্য যখন হল ক্লিয়ারেন্স এর নামে আপনাদের একটা সাক্ষরের প্রয়োজন হয় তখন, ২০২০ সালের তথা করোনাকালিন এক মাসের ভাড়া বাকি থাকলে তো একটা সাক্ষর করছেন না বরং নানা রকম কটুক্তি ও অপমানকর কথা বলে মানুসিক ভাবে আঘাত করছেন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা ছাত্র/ছাত্রীদের, তার হাজারো প্রমান বর্তমান ছাত্রসমাজের কাছে রয়েছে। জোক যেভাবে শরীর থেকে প্রকাশ্যে রক্ত চুষে, ঠিক সেভাবে নিরিহ,গরীব,অসহায় ছাত্র/ছাত্রীদের থেকে প্রতি মাসের টাকা প্রশাসনের অর্ডার বলে গুনে গুনে নিতে দ্বিধা করেছেন না। আর হ্যা ভালোই তো বয়ান দেন আপনারা নাকি ছাত্রবন্ধব, মানবতার জন্য নিবেদিত। নির্যাতন অনেক ধরনের হয় এমন অমানবিক নির্যাতনের ইতিহাস জাতি আগে কখনো দেখেনি।

কতোগুলো অসহায়, নিরীহ পরিবারের সন্তানের অপমান করা হয়েছে। এই সময়ে এতোগুলি টাকার চিন্তা চাপিয়ে দিয়ে কতোগুলা বাবা মায়ের চোখের ঘুম নষ্ট করেছেন আপনি কল্পনা করতে পারেন কি? আমাদের মাননীয় প্রশাসন!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যতগুলি আবাসিক সিট রয়েছে তার প্রতিটার বিনিময়ে ১২ মাসে ১০০ টাকা করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর থেকে নিলে কত হয় মাননীয় প্রশাসন??
এগুলি কি সত্যিই বৈধ??
এ টাকায় গড়া রক্ত মাংস কি হালাল??
অফিসে না এসে মাসের পর মাস আপনার ক্যাম্পাসে কত কর্মকর্তা লাখোটাকা বেতন উত্তলোন করে তার হিসেব কি কেউ রাখেন??

এখন আবার বিভাগ উন্নয়ন ফি এর নামে প্রতিটি শিক্ষার্থীর থেকে ফি ধার্য করা হয়েছে সেটা আবার নাকি অগ্রনী ব্যাংকের রাবি শাখায় দিতে হবে। যা দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ গ্রাম থেকে আসা লাগছে, সেখানে যে ফি দেয়া লাগছে তার চেয়ে বেশি তার যাতায়াত আর থাকা খাওয়ার পেছনে ব্যায় হচ্ছে। মজার ঘটনা হচ্ছে এখানে এসে ম্যাচে থাকলে শিক্ষার্থীদের করোনা হবার সম্ভাবনা নেই। বাস বা ট্রেনের একই সিটে দুইজন বসে আসলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর করোনা হচ্ছে না পাবলিক হটেলের একই টেবিলে সাধারন অসচেতন জনগনের সাথে খাবার খেলে করোনার ভয় নেই। শুধু হলে এক রুমে দুই /তিন জন থাকলে বা হলের ক্যান্টিন বা ডাইনিং এ থাকলে করোনার সম্ভাবনা। কি যে বোঝান আপনারা আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী কি কিছু বুঝি না?
মাননীয় প্রশাসন, সৃষ্টি কর্তা সব দেখেন ও বোঝেন। সাধারন,অসহায়দের ওপর কোন অন্যায় অনেকদিন চলতে থাকলে তা পরিকল্পিত পরিকল্পনার চেয়েও ভয়াবহ রুপ নিতে পারে। আর সেটা সত্যিই সাধারনের ধারনার চেয়ে অনেক ভয়ংকর।

খুব সাধারন ভাবে রাবির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এটাই বলার বিষয়, সাধারন ছাত্রদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব মেনে নিয়ে সত্যিকার ছাত্রবান্ধবের পরিচয়ে পরিচিত হন। সুন্দর আলোকিত সমাজ বিনির্মানে যে কোন পরিস্থিতিতে ছাত্রদের পাসে থাকুন। দেশকে এগিয়ে নিতে গবেষণার বিকল্প কিছু নেই সত্যিকারের গবেষক রুপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলুন তবেই আলোকিত ও সম্মানিত হবে আপনার নবাগত সম্ভবনা।

হাম্মাদ সিয়াম
শিক্ষার্থী:শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়