মাসুম বিল্লাহঃ
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরনখোলায় রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের পেরেকে নষ্ট হচ্ছে অনেক গাছ। ছোট থেকে বড় সড়কের দু’পাশে বেড়ে ওঠা গাছগুলো রেহাই পাচ্ছে না বিজ্ঞাপনের পেরেকের নিষ্ঠুর আঘাত থেকে। বিজ্ঞাপন লাগানো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা বার্তার ফ্যাস্টুন। দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাটানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১২ এর কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যে যেখানে পারছে পেরেক বা তাঁরকাটার মাধ্যমে গাছে বিজ্ঞাপন সাটিয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নেরর বিভিন্ন এলাকা সহ উপজেলা প্রশাসন পাড়া, হাসপাতাল রোড এবং শরনখোলা-মোড়েলগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের অধিকাংশ গাছে লাগানো হয়েছে বিজ্ঞাপন ও শুভেচ্ছা বার্তা। লোহার পেরেকের সাহায্যে গাছের সাথে এমন ভাবে গেঁথে দেয়া হয়েছে যাতে সহজে কেউ খুলতে না পারে। এক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে রাস্তার ধারের গাছগুলো। বিজ্ঞাপনের পেরেক ঠুকে দেয়ার কারণে গাছে পানি জমে তাতে পচন ধরায় বহু গাছ মারা যাওয়ার উপক্রম হয়ে দাড়িয়েছে।
সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২০১২ সালে ‘দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাটানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন পাস করেন। তাতে বলা হয় নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে দেয়াল লিখন বা পোস্টার লাগানো যাবে না কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। তাছাড়া যেভাবে পেরেক দিয়ে বিজ্ঞাপন সহ শুভেচ্ছা বানী লাগানো হচ্ছে তাতে সামান্য ঝড় বাতাসে এগুলো ছিড়ে পথচারীরা দূর্ঘটনার স্বীকার হতে পারেন।
এ ব্যপারে শরনখোলা উপজেলা জাতীয় পার্টি নেতা এ্যাডঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক বিধিবিধান না জেনেই বর্তমানে অনেকে দল করে। যার ফলে নিয়মনীতি লঙ্ঘনের ছড়াছড়ি চলছে। তবে সরকারী আইন যারা অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিতে পারেন।
উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শুভেচ্ছা প্রদানকারী যুবলীগ নেতা মো. শামীম মুন্সী এবং সাউথখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম লিটন বলেন, পরিচিতি বৃদ্ধির জন্য কিছু শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও আমরা কোন গাছে পেরেক দেই নাই।
এছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার বলেন, নির্বাচনের সাথে যারা যুক্ত হতে চান তফশীল ঘোষনা হলে আচরণ বিধির সকল নিয়মকানুন আমরা তাদের বুঝিয়ে দেই। তবে রাজনৈতিক নেতা ছাড়া কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনী কোন পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, গাছে পেরকে মেরে বিজ্ঞাপন কিংবা শুভেচ্ছার ব্যানার লাগানো সম্পূর্ন বেআইনী। এ ব্যাপারে খুব শীগ্রই মাইকিং করে সচতেন করা সহ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।