“শেষের পথে শুটকী মৌসুম” রাজস্ব আদায়ের নামে বেশিরভাগ অর্থ যাচ্ছে বনকর্তার পকেটে

94

 

মাসুম বিল্লাহঃ
সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হওয়া শুটকি মৌসুম এখন প্রায় শেষের পথে। শুটকি তৈরী ও প্রক্রিয়াজাত করনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত চরগুলোতে উন্নত পরিবেশ না থাকা সহ চরম অব্যবস্থাপনার কারনে মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ীদের মতে, উন্নত পরিবেশ বজায় থাকলে রপ্তানীযোগ্য শুঁটকি উৎপাদন করা গেলে সরকারি রাজস্ব আরো বৃদ্ধি পেত। তবে, শুটকী মৌসুমের সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসার কারনে দুবলা টহল ফাঁড়ি কর্মকর্তা সহ সেখানে কর্মরত বনরক্ষীরা সরকারী রাজস্ব আদায়ের কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত।
অভিযোগ রয়েছে, চলতি মৌসুমে শুটকি পল্লীতে কর্মরত জেলেদের দৈনন্দিন রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ্বলানী হিসেবে সুন্দরী কাঠ সহ বনের নানা ধরনের সম্পদ ব্যবহারের জন্য (ডিএফসি) সরকারি রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে দুবলা টহল ফাঁড়ি কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় নানা অজুহাতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বানিজ্য চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরে শুটকি পল্লীতে প্রায় ১৬হাজার জেলের থাকার জন্য ৭১৭টি, মহাজনদের জন্য ৩৫টি বসতঘর ও মৎস্য আহরণ কাজে ৮৫০ টি নৌকা ও ট্রলারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে, প্রতিটি ঘর ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ অনুসারে তৈরীর নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার ভিন্নতা রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়ার চর সহ ৬/৭টি চরে গত চার দশক ধরে চলছে দুবলা শুঁটকি পল্লী। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস চালু থাকে শুঁটকি তৈরীর এ মৌসুম। এতে উপকুলীয় এলাকার খুলনা, সাতক্ষীরা, শরণখোলা, বাগেরহাট, মোংলা, রামপাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী সহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে ও ব্যবসায়ীরা শুঁটকি তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, শুটকি পল্লীর কয়েক জন মহাজন ও জেলে বলেন, দুবলায় কর্মরত কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তা ও কর্মীরা সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করে অনিয়মের রাজত্ব চালাচ্ছেন। শুটকি পরিমাপ ও নৌকার (বি.এল.সি) লাইসেন্স নবায়ন এবং সুন্দরবনের জ্বালানী ব্যবহারের জন্য (ডিএফসি) সহ নানা ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম করেছেন তারা। এমনকি বনজ সম্পদ ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও অস্থায়ী বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফাঁড়ি কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে তা ভঙ্গ করেছেন জেলে ও তাদের মহাজনরা। এছাড়া পল্লীতে অবস্থানরত কয়েক হাজার জেলে তাদের দৈনন্দিন কাজে সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তার জন্য নিয়মানুযায়ী প্রতিজন জেলের অনুকুলে সরকারি রাজস্ব মাত্র ৫৭ টাকা হলেও ফাঁড়ি কর্মকর্তাকে দিতে হয়েছে ৪০০/৫০০ টাকা। এমনকি শুটকি পল্লী থেকে প্রলাদ বাবু লাখ লাখ টাকা গায়েব করে তিনি হজম করছেন। এছাড়া আমরা (জেলেরা) বনরক্ষীদের কাছে নিয়মের কথা বললে তারা নানা অজুহাতে আমাদের পাশ পারমিট (অনুমতি) বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুবলা টহলফাড়ীর কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় অনিয়মের বিষয়টি মিথ্যা দাবী করে বলেন, এখানে নিয়মনীতির বাহিরে কোন কিছুই করা হচ্ছে না বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, অনিয়মের বিষয়গুলো আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।