সত্য বচনের আড়ালে কাদের মির্জার ভন্ডামি রয়েছে- ভাগনে রাহাত

81

 নোয়াখালী প্রতিনিধি- স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ সদস্য ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগ বলয়ের অন্যতম নেতা কাদের মির্জার ভাগনে ফখরুল ইসলাম রাহাত বলেছেন, আজকে ফেইসবুক লাইভে এসে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা আমার সর্ম্পকে বিভিন্ন অসত্য অভিযোগ এবং মিথ্যাচার করেছেন। যার প্রতিবাদ করার জন্য আজকে আমার ফেইসবুক লাইভে আসা। আপনারা জানেন আবদুল কাদের মির্জা গত ৪-৫টি মাস ধরে এই কোম্পানীগঞ্জের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। তার অপরাজনীতির কারণে আজকে শান্তির কোম্পানীগঞ্জ একটি অশান্তির জনপদ এবং অরাজকতার জনপদে রুপান্তরিত হয়েছে। আমি প্রথমে আমার বিরুদ্ধে আবদুল কাদের মির্জার অভিযোগগুলো খন্ডন করব এবং আবদুল কাদের মির্জার কিছু সত্যবচন আপনাদের সামনে তুলে ধরব। মঙ্গলবার ( ৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় তিনি কাদের মির্জার ফেইসবুক লাইভে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে পাল্টা ফেইসবুক লাইভে এসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আপনারা আজকে লাইভে শুনেছেন,ওনি আমার সর্ম্পকে অভিযোগ করেছেন। আমার গাড়ি কবিরহাট-কুমিল্লা,দাগনভূঞা এবং ফেনীতে সর্বশেষ মাদকসহ আটক হয়েছে । এ ধরণের কোন ঘটনা আদৌ ঘটেনি। এ ঘটনা সম্পূর্ন কল্পনা প্রসূত। আমার মনে হয় ওনি স্বপ্নে দেখতে পারেন। আপনারা সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে তদন্ত করলে আপনারা এই বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে পারবেন। উনি আরো অভিযোগ করেছেন, আমার গাড়ি নাকি ওখানে এখনো আটকে রাখা হয়েছে। আপনাদেরকে আমি জানাতে চাই আমার মালিকানাধীন ঢাকা মেট্রো-গ১৫-৫০০ মডেলের গাড়িটি আমি ১৫-০১-২০১৭ তারিখে বিক্রি করি এসএম ট্রেডিং নামক একটি কোম্পানীর কাছে। যেটা আপনারা বিআরটিএ ওয়েবসাইট থেকে আপনারা এটা চেক করতে পারবেন। তাতেই আপনারা বুঝবেন যে আবদুল কাদের মির্জার এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য। উনি আমাদের পারিবারিক মালিকানধীন মার্কেট এইচআর সিটি কমপ্লেক্স সর্ম্পকে প্রায়শই মিথ্যাচার করেন। ওনি ব্যাক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে ওনি নিজে স্কাপেটার ভাড়া করে সেনাবাহিনী এনে ওনি আমার মার্কেট ভাঙ্গার অপচেস্টায় লিপ্ত হয়েছিলেন। অথচ সে মানুষটি পাঁচদিন আগে বলেছেন রাহাতের মার্কেটতো যৌথ বাহিনীর আমলেও ভাঙ্গা পড়েনি। ফলে এখনোতো ভাঙ্গা পড়ারর কথা নয়। তিনি আরো বলেন, আপনাদের সদয় জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি ২০০৭ সালে যখন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিলো,তখন আমাদের এই মার্কেট নিয়ে তারা পরিমাপ করে তার খালো সীমানা নির্ধারণ করেছে আজকে যে পুলটি (ব্রীজ) এখানে আছে। সে পুল থেকে পূর্বদিকে তারা খালের সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন আমাদের মার্কেটে তারা তখন ভাংচুর করতে পারেননি। কারণ আমাদের মালিকানা সঠিক ছিল। এ সম্পর্কে কোটে একটি মামলা চলমান আছে, সীমানা নির্ধারণ করার জন্য। আমারা কোর্টে মামলা করেছি। উনি আরেকটি অভিযোগ করেছেন জনতা ব্যাংক থেকে আমি ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছি। এ সর্ম্পকে পূর্বকার লাইভে আমি বিষয়টি ক্লিয়ার করেছি। এখনো বলতে চাই জনতা ব্যাংকে যে অর্থ তসরুপের ঘটনা ঘটেছে এ ঘটনাটি ছিলো তৎকালীন ক্যাশিয়ার লিটন চন্দ্র দাস সে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। যে সময় এ ঘটনাটি ঘটেছে তার ১ বছর আগে আমি বসুর হাট শাখা থেকে চৌমুহনী শাখায় বদলি হয়েছিলাম। আমার প্রমোশন হয়েছিল এজন্য। উনি জঘন্য মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। আবার তিনি বলেছেন বিগত ৯ মার্চ আমার বাসা থেকে অস্ত্র নিয়ে নাকি পৌরসভায় হামলা হয়েছে। আমার বাসায় সিসি ক্যামেরা আছে। আমি প্রশাসনের লোকদের অনুরোধ করব আপনারা এসে আমার ৯ তারিখের সিসি টিভি ফুটেজ দেখেন। আপনারা তদন্ত করেন,যদি এরকম কোন ঘটনা ঘটে থাকে। আপনারা যে শাস্তির আওতায় আমাকে আনবেন আমি সে শাস্তি মাথা পেতে নেব। রাহাত বলেন, আপনি আবদুল কাদের মির্জা সাহেব মানুষ সর্ম্পকে আপনি অনেক সত্য বচন করেন,আপনি যদি নিজের সর্ম্পকে সত্য বচন গুলো করতেন আমাদের ভালো লাগতো। আপনার সর্ম্পকে কিছু সত্য বচন শোনা যায়। আপনার সর্ম্পকে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আমরা শুনি। আপনার সর্ম্পকে অভিযোগ আছে আপনি সংসদ সদস্য কোটায় যে সমস্ত টিআর ২০০৯ সাল থেকে এসেছে। আপনি সব গুলো টিআর আত্মসাৎ করেছেন। আপনি পৌর সভার সকল টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনার প্রচন্দের ঠিকাদরকে কাজ দিয়ে আপনি সেখান থেকে পারসেন্টটেজ নিয়ে থাকেন। আপনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার যত কাজ আছে সবগুলো কাজ আপনি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সেখান থেকে আপনি কমিশন নিয়েছেন এবং সে কাজগুলো থেকে আপনি বড় অংকের সুবিধা নিয়েছেন। গতকাল কে সোহেল রানা নামে একটিস ফেসবুক আইডি থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। আপনি ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ কন্ট্রাকটর থেকে ৫০ লক্ষ টাকা আপনি চাঁদা আদায় করেছেন। আপনি কুমিল্লার একটি কাজ থেকে এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। আপনি মুন্সীগঞ্জের এক কট্রাকটর থেকে ৪০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। আপনি কোম্পানীগঞ্জের সড়ক ও জনপদের যতগুলো কাজ ছিল সব কাজে আপনি চাঁদাবাজি করেছেন এবং মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে কাজগুলো করতে দিয়েছেন। আপনিতো বলেছেন আপনি ছেঁড়া শাট নিয়ে বসুরহাট বাজারে এসেছেন,আপনি খেতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, আমার নানা মরহুম মোশারেফ হোসেন সাহেব ১১ সন্তানকে খুব ভালোভাবে পতিপালন করেছে,আপনি কেন খেতে পারেনি,আপনার কেন ছেড়া জামা ছিলো,এটা আপনিই ভালো বলতে পারবেন। ছেঁড়া জামা নিয়ে আপনি এতো অর্থের মালিক কিভাবে হলেন। আজকে ঢাকায় মোহাম্মদী হোমর্সে আপনার ২ টি ফ্লাট রয়েছে,আজকে কক্সবাজারে আপনার ফ্ল্যাট এবং হোটেল ব্যবসা আছে বলে আমরা শুনেছি। আজকে আমেরিকাতে বাড়ী আছে বলে আমারা শুনেছি। আজকে ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এফডিআর করা আছে বলে আমরা শুনেছি। আমি দুদককে আহবান জানাবো,আপনারা এ বিষয়গুলো তদন্ত করুন।তাহলে সত্যবচন নামধারী আবদুল কাদের মির্জার আসল খোলসটা বের হয়ে আসবে। আপনি মানুষের ছেলেকে বিষেদাগার করেন,আপনার ছেলে কেন মামলায় পড়েছে। এটা নিয়ে আপনার অনেক হাহাকার।আর মানষের ছেলে আজকে দুজন মায়ের ছেলে দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। কত মায়ের ছেলে জেলে জীবন কাটাচ্ছে। কত মায়ের ছেলের রক্ত ঝরছে। শুধু মাত্র আপনার ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য।