হোস্টেল বন্ধে বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

28

ইউনিসেফের তথ্যমতে, করোনার প্রভাবে প্রায় ১৮৮ টি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রবাহ সচল রাখার জন্য শুরু হয় অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস। উন্নত দেশগুলো সফল ভাবে অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলেও উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে নানান সমস্যা। পর্যাপ্ত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের অভাব, নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যা, অদক্ষ শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের আইসিটি অনভিজ্ঞতা সবকিছুর সমন্বয়ে করোনার প্রভাবে উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলো শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে গেছে। অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করলে দেশগুলোকে এখন পর্যন্ত তার খেসারত গুণেই যেতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে ১৭ মার্চ ,২০২০ থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রমান্বয়ে কয়েক দফা বন্ধ ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত করতে চলেছে যা ইতিহাসে বিরল। অনলাইনভিত্তিক ক্লাস চললেও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চলছে দর কষাকষি। যদিও বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনভিত্তিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করছে তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজগুলোর অন্যতম সুবিধা হিসেবে আবাসিক থাকার ব্যবস্থাকে বিবেচনা করা হয়। গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার পাথেয় হিসেবে কাজ করে আবাসিক হোস্টেল গুলো। তবে করোনার দরূণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে আবাসিক থাকার ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় প্রশাসন আবাসিক হোস্টেল গুলো বন্ধ রেখেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

করোনার কারণে অনেক স্বনির্ভর শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম জব, টিউশনি, প্রজেক্ট সহ বিভিন্ন আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ি ফিরে কোন মতে প্রতিষ্ঠান খোলার আশায় দিন গুনছে। আর এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এহেন সিদ্ধান্তে হতাশ শিক্ষার্থীরা। টিউশনি করে নিজের মাসিক খরচ ও পড়ালেখার ব্যয় বহন করে এমন এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন কাজ ছেড়ে বাড়িতে থাকার ফলে জমানো টাকা শেষ। এই মুহূর্তে একাডেমিক পরীক্ষার ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করে ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা করা তার জন্য অসম্ভব। ঢাকা দেশের অন্যতম জনবহুল এলাকা হওয়ায় করোনা চলাকালীন সময়ে আত্মীয়ের বাসায় থাকার ব্যবস্থা করাটা অনুচিত বলে মনে করেন ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের এই শিক্ষার্থী। এরকম হাজারো শিক্ষার্থী রয়েছেন যাদের রাজধানী ঢাকায় নেই কোন পরিচিত স্বজন তবে তাদের উপায় কি হবে?

অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহন নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। এতে করে লাখো শিক্ষার্থী আশার আলো খুঁজে পাবে। নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার যোগ্যতা অর্জন করবে। তবে আবাসিক হোস্টেল সুবিধা বন্ধ করে পরীক্ষা গ্রহণ, এটি নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক একটি সিদ্ধান্ত। এছাড়াও শহর পর্যায়ে নতুন করে ফ্ল্যাট বা থাকার ব্যবস্থা করতে গেলে সেখানে অগ্রীম টাকা শোধ করে তারপর থাকতে হয় যা অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের জন্য বহন যোগ্য নয়। আর এদিকে করোনার কারণে উপার্জনের পথ শূন্য। এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে চলছে নানা সংশয়। আবাসনের অভাবে কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সে দায় আদৌ কি কেউ নেবে? অথচ পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের জন্য হোস্টেল গুলোতে যদি শুধু মাত্র পরীক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা যেত তবে বিষয়টি কত সহজ হয়ে যেতো। শুধু পরীক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোস্টেলে অবস্থান সম্ভব হবে। অন্যথায় পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা পরিমাপ করে নির্দিষ্ট কিছু কক্ষ বরাদ্দ করা যায় যাতে করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা চলাকালীন সময় পর্যন্ত হোস্টেলে অবস্থান করতে পারে।। এবং পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে হোস্টেল তত্ত্বাবধায়কের কাছে কক্ষের চাবি হস্তান্তর করবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে খুব শীঘ্রই স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান প্রশাসন তাদের উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে হোস্টেল সাময়িক খোলার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের পক্ষে সঠিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমি মনে করি।

লেখকঃ মাজহারুল আবীর
শিক্ষার্থী,
সরকা্রি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ঢাকা
যোগাযোগ: maazhar205@gmail.com